প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৫-০৬-২৬ ১৩:১২:৫৯
জুয়েল রানা, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে এই বিদ্যালয়গুলো। এর ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সখীপুরে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৭টি। এর মধ্যে ৪২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ১১টি বিদ্যালয়ে ‘চলতি দায়িত্বে’ প্রধান শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে।
শুধু প্রধান শিক্ষকই নয়, উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য ১৯টি। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস সহকারী, উচ্চমান হিসাব সহকারী ও অফিস সহায়ক এই চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৩টি চলছে চলতি দায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা ওই ৫৩ শিক্ষকই প্রতিটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ওই ১১জন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিনেও তারা পদোন্নতি পায়নি। পদোন্নতি দেওয়া হলেই চলতি দায়িত্বে থাকা ওই ১১ সিনিয়র শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে যোগদান করতে পারবেন। অন্য ৪২জন সহকারী শিক্ষক সরাসরি ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবসর ও বদলিজণিত কারণে গত এক-দেড় বছর আগে পর্যায়ক্রমে ওই ৫৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন। প্রশাসনিক নানা জটিলতায় গত এক দশকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না বলে তথ্যসূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের অভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষকদের অনেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অধীন কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন, যার ফলে শৃঙ্খলা ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিজা আক্তার বলেন, ক্লাস রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি।
অভিভাবক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনেক সহকারী শিক্ষকই মনস্তাত্ত্বিকভাবে মেনে নেয় না। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় থাকে না। পাঠদানেও আগ্রহ কমে যায়। শিক্ষকরাও ঠিকমতো পাঠদানে মনোনিবেশ করেন না এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা থাকে না। সবাই নিজের ইচ্ছেমত চলে। সেটিও দেখার কেউ নেই। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ জরুরি।